শিশু স্বাস্থ্য

শিশুর ডায়রিয়া: খাবার স্যালাইন ও ঘরে যত্নের সঠিক নিয়ম

শিশুর ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বড় বিপদ পানিশূন্যতা। স্যালাইন বানানোর সঠিক নিয়ম, বয়স অনুযায়ী কতটুকু খাওয়াবেন আর কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ মিনিটে পড়ুন

শিশুর ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়া, অর্থাৎ পানিশূন্যতা। সময়মতো সঠিক নিয়মে খাবার স্যালাইন খাওয়ালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বিপদ এড়ানো যায়।

খাবার স্যালাইন বানানোর সঠিক নিয়ম

  1. প্রথমে সাবান দিয়ে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।
  2. প্যাকেটের গায়ে যত পানির কথা লেখা আছে (সাধারণত আধা লিটার), ঠিক ততটুকু বিশুদ্ধ বা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি নিন।
  3. পুরো প্যাকেটের স্যালাইন ওই পানিতে ভালো করে গুলে নিন।
  4. বানানো স্যালাইন ১২ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না; এরপর ফেলে দিয়ে নতুন করে বানান।

কম পানিতে স্যালাইন বানাবেন না বা প্যাকেট ভাগ করে অল্প অল্প বানাবেন না। ভুল মাপের স্যালাইন শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কতটুকু খাওয়াবেন

প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর:

  • ২ বছরের কম বয়সী শিশু: ৫০–১০০ মি.লি. (প্রায় সিকি থেকে আধা কাপ)
  • ২ থেকে ১০ বছর: ১০০–২০০ মি.লি. (প্রায় আধা থেকে এক কাপ)
  • বড় শিশু: যতটা খেতে চায়

চামচ বা কাপে অল্প অল্প করে খাওয়ান। বমি করলে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে আবার ধীরে ধীরে খাওয়ান।

আর যা করবেন

  • বুকের দুধ খাওয়া শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যান।
  • বড় শিশুকে স্বাভাবিক, নরম ও ঘরে তৈরি খাবার দিন; খাবার বন্ধ করবেন না।
  • চিকিৎসকের পরামর্শে জিংক ট্যাবলেট বা সিরাপ নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত খাওয়ান।
  • প্যাকেট স্যালাইন হাতের কাছে না থাকলে আপাতত ভাতের মাড়, ডাবের পানি বা অন্যান্য তরল দিন এবং যত দ্রুত সম্ভব স্যালাইন জোগাড় করুন।

যা করবেন না

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না।
  • অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস, কোমল পানীয় বা গ্লুকোজের পানি দেবেন না; এগুলো ডায়রিয়া বাড়াতে পারে।

এই লক্ষণ দেখলে দ্রুত ডাক্তার বা হাসপাতালে যান

  • শিশু খুব নিস্তেজ বা ঘুমঘুম, খেতে বা বুকের দুধ টানতে পারছে না
  • বারবার বমি করছে, কিছুই পেটে রাখতে পারছে না
  • চোখ বসে গেছে, মুখ ও জিহ্বা শুকনো, অনেকক্ষণ প্রস্রাব হয়নি
  • পেটের চামড়া চিমটি দিয়ে ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরছে
  • পায়খানার সাথে রক্ত যাচ্ছে বা জ্বর আছে

প্রতিরোধ

খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশুদ্ধ পানি পান, ঢেকে রাখা খাবার খাওয়া এবং শিশুর সব টিকা সময়মতো দেওয়া ডায়রিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শেয়ার করুন: WhatsApp Facebook

সুস্থ থাকুন, প্রয়োজনে সঠিক ডাক্তার দেখান

৬৪ জেলার বিশ্বস্ত ডাক্তার খুঁজে ঘরে বসে Serial নিন। Serial নেওয়া সম্পূর্ণ Free।

ডাক্তার খুঁজুন