
তীব্র গরমে শরীর যখন নিজের তাপমাত্রা আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন হিট স্ট্রোক হয়। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪°F (৪০°C) বা তার বেশি উঠে যেতে পারে। এটি একটি জরুরি অবস্থা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
- বয়স্ক মানুষ ও ছোট শিশু
- রোদে কাজ করা শ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষক
- হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- যাঁরা পর্যাপ্ত পানি পান করেন না
যে লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন
- শরীর খুব গরম হয়ে যাওয়া, ত্বক লাল ও শুকনো বা ঘামে ভেজা
- তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা বমি
- বুক ধড়ফড় করা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া
- অস্থিরতা, অসংলগ্ন কথা, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
তাৎক্ষণিক করণীয়
- রোগীকে দ্রুত ছায়া বা ঠান্ডা, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় নিন।
- অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভিজিয়ে বাতাস করুন।
- ঘাড়, বগল ও কুঁচকিতে ঠান্ডা ভেজা কাপড় বা বরফের প্যাক দিন।
- জ্ঞান থাকলে ও গিলতে পারলে অল্প অল্প করে পানি বা খাবার স্যালাইন দিন।
- রোগী অজ্ঞান হলে মুখে কিছু খাওয়াবেন না, দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিন।
হিট স্ট্রোক সন্দেহ হলে ঘরে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা করবেন না। প্রাথমিক ঠান্ডা করার ব্যবস্থা নিতে নিতেই হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
প্রতিরোধে যা করবেন
- তৃষ্ণা না পেলেও সারাদিনে বারবার পানি পান করুন।
- দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
- হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন, বাইরে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন।
- অনেক ঘাম হলে খাবার স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করুন।
- অতিরিক্ত চা, কফি ও কোমল পানীয় কমিয়ে দিন।
- বন্ধ গাড়িতে কখনো শিশু বা কাউকে রেখে যাবেন না।
- পরিবারের বয়স্ক সদস্য ও প্রতিবেশীদের খোঁজখবর রাখুন।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


