
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। বর্ষাকালে ও তার পরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ
- হঠাৎ তীব্র জ্বর
- তীব্র মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা
- মাংসপেশি, হাড় ও গিঁটে ব্যথা
- বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা
- শরীরে লালচে র্যাশ
বিপদচিহ্ন: দেখা দিলেই হাসপাতালে যান
সাধারণত জ্বর কমে আসার সময় (৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে) জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত হবেন না। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যান:
- পেটে তীব্র ব্যথা বা বারবার বমি
- মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, বমি বা পায়খানার সাথে রক্ত, কালো পায়খানা
- অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঘুমঘুম ভাব
- শ্বাসকষ্ট
- হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
- প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া
ঘরে যত্ন
- পূর্ণ বিশ্রাম নিন।
- প্রচুর তরল পান করুন: পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ।
- জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামল খান, চিকিৎসকের বলে দেওয়া মাত্রায়।
- চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা (যেমন CBC, প্লাটিলেট, NS1) করান।
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা এ ধরনের অন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রতিরোধ
- বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অন্তত তিন দিন পরপর ফেলে দিন: ফুলের টব, পুরনো টায়ার, ডাবের খোসা, এসি ও ফ্রিজের নিচের পানি।
- দিনের বেলায় ঘুমালেও মশারি ব্যবহার করুন।
- লম্বা হাতার জামা পরুন, প্রয়োজনে মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহার করুন।
- পানির পাত্র সবসময় ঢেকে রাখুন।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


