
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। রক্তে সুগার দীর্ঘদিন বেশি থাকলে চোখ, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও পায়ের স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। তবে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাসে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
১. নিয়মিত সুগার মাপুন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে গ্লুকোমিটার দিয়ে সুগার মাপুন এবং তারিখ ও সময়সহ একটি খাতায় লিখে রাখুন। ডাক্তার দেখানোর সময় খাতাটি সাথে নিন।
২. প্লেটের নিয়ম মেনে খান
- প্লেটের অর্ধেক শাকসবজি
- এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন: মাছ, ডাল, ডিম বা মুরগি
- বাকি এক-চতুর্থাংশ ভাত বা রুটি; সাদা ভাতের পরিমাণ কমান
- চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও মিষ্টি জুস এড়িয়ে চলুন
৩. প্রতিদিন হাঁটুন
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটার চেষ্টা করুন, যেমন সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে। খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটাও উপকারী।
৪. ওষুধ ও ইনসুলিন নিয়ম মেনে নিন
সুগার ভালো থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ইনসুলিন নিজে থেকে বন্ধ বা কম-বেশি করবেন না।
৫. পায়ের যত্ন নিন
- প্রতিদিন পা ভালো করে দেখুন: কাটা, ফোসকা বা ঘা আছে কিনা
- খালি পায়ে হাঁটবেন না, আরামদায়ক জুতা পরুন
- পা ধোয়ার পর আঙুলের ফাঁকসহ ভালো করে শুকিয়ে নিন
৬. ওজন, ঘুম ও ধূমপান
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান এবং ধূমপান ও তামাক পুরোপুরি ছেড়ে দিন।
৭. নিয়মিত চেকআপ করান
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী HbA1c পরীক্ষা (সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস পরপর), রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান। বছরে অন্তত একবার চোখ ও কিডনি পরীক্ষা করানো জরুরি।
সুগার হঠাৎ কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি হতে পারে। তখন সাথে সাথে ৩ চা-চামচ চিনি পানিতে গুলে বা গ্লুকোজ খান এবং ১৫ মিনিট পর আবার সুগার মাপুন। অজ্ঞান হলে মুখে কিছু না দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিন।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


