
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেশারের অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না। অথচ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই একে নীরব ঘাতক বলা হয়।
কত হলে উচ্চ রক্তচাপ
সাধারণভাবে ১২০/৮০ mmHg-এর কম রক্তচাপকে স্বাভাবিক ধরা হয়। আলাদা আলাদা দিনে কয়েকবার মেপে রক্তচাপ ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি পাওয়া গেলে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। আপনার জন্য সঠিক লক্ষ্যমাত্রা চিকিৎসক ঠিক করে দেবেন।
সঠিকভাবে প্রেসার মাপার নিয়ম
- মাপার আগে ৫ মিনিট চুপচাপ বসে বিশ্রাম নিন।
- আগের ৩০ মিনিট চা, কফি ও ধূমপান করবেন না।
- পিঠ হেলান দিয়ে সোজা হয়ে বসুন, পা মেঝেতে রাখুন, পায়ের ওপর পা তুলবেন না।
- হাত টেবিলে রাখুন, যাতে কাফ (cuff) হৃদ্যন্ত্রের সমান উচ্চতায় থাকে।
- মাপার সময় কথা বলবেন না। ১–২ মিনিট পর আবার মেপে দুইবারের গড় লিখে রাখুন।
নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়
- লবণ কমান: দিনে মোট ৫ গ্রামের কম, অর্থাৎ প্রায় এক চা-চামচ। পাতে আলাদা কাঁচা লবণ খাবেন না।
- আচার, চানাচুর, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।
- প্রতিদিন শাকসবজি ও ফল খান।
- নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ধূমপান, জর্দা ও সব ধরনের তামাক বর্জন করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুমান এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
- প্রেসারের ওষুধ প্রতিদিন নিয়ম করে খান। ভালো লাগলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে যান।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


